Sunday, January 5, 2020

"মাত্র" কেন লিখতে হয়, টাকার পরিমাণ লেখার পর? অথবা অংকে কোনো পরিমান লিখার পর এই "/= " চিহ্ন দিতে হয় কেন?


  "মাত্র" কেন লিখতে হয়, টাকার পরিমাণ লেখার পর? অথবা অংকে কোনো পরিমান লিখার পর এই "/= " চিহ্ন দিতে হয় কেন?


পঞ্চাশ টাকা লিখার পর মাত্র লিখি আবার কোটি  টাকা লিখার পরও মাত্র লিখি।

কথা হলো এতগুলো টাকার পরিমান লিখার পর "মাত্র" কেন লিখতে হয়? অথবা অংকে কোনো পরিমান লিখার পর এই "/= " চিহ্ন দিতে হয় কেন??

টাকার পরিমান যাই হোক না কেন শেষে মাত্র লেখার একমাত্র কারণ হলো, নির্দিষ্টতা।

‘মাত্র’ দ্বারা বোঝায় এর সর্বশেষ সিলিং। যেমন ধরুন পঞ্চাশ হাজার টাকা মাত্র, মানে পঞ্চাশ হাজার টাকার এক টাকা কমও না আবার এক টাকা বেশিও না।

আর তাছাড়া চেক প্রদানকারী ধরুন শুধু ৫০০০০ টাকা লিখে দিলেন, আর চেক গ্রহীতার অসদাচরণের কারণে সেখানে যদি একটা শূন্য বেশি দেয়া হয় তাহলে তো পুরাই ধরা !

তাই মাত্র লিখে অথবা এমাউন্ট লিখার পর এই " /= " চিহ্ন দেয়ার একমাত্র কারণ যাতে আর কোনোভাবেই সেখানে কোনো রকম কারচুপির করার সুযোগ না থাকে। অর্থাৎ এটি প্রতারণা থেকে বাঁচবার একটি অন্যতম ফাঁদও বলতে পারেন।

অবশ্যই চেকে বা ডিপোজিট স্লিপে মাত্র লিখবেন, সাথে এমাউন্ট লেখার পর লম্বা টানে এমাউন্ট ঘরের বাকি জায়গা জুড়ে দাগ টেনে দেবেন।

ধন্যবাদ।

Friday, January 3, 2020

পৃথিবী কেন ঘোরে?

পৃথিবী কেন ঘোরে?


এরিস্টটল ও টলেমি বলেছিলেন, ‘পৃথিবী স্থির। মহাবিশ্বের কেন্দ্র হচ্ছে এই পৃথিবী। একে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরে চলেছে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র। ‘পৃথিবী স্থির না গতিশীল-এ নিয়ে অতীতে বিজ্ঞানীদের মাঝে কম তর্কবিতর্ক হয়নি। কারণ, তখন পৃথিবী ও সৌর জগত সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল অনুমান ও দার্শনিক ভাবানুবাদ সম্পর্কিত।

১৬০৯ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে আসে। গ্যালিলিও দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করে গ্রহ নক্ষত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা শুরু করেন। পরবর্তীতে এরিস্টটল ও টলেমির চার হাজার বছরের পুরানো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্বকে ভুল প্রমাণ করে কোপার্নিকাস ও গ্যালিলিও বলেন, সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র আসলে সূর্য। পৃথিবী তাকে অনুসরণ করে মাত্র।

একসময় বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন, পৃথিবী কেবল সূর্যের চারদিকে নয়, নিজ অক্ষের উপরও প্রতিনিয়ত ঘুরছে। কিন্তু পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের কারণ কি? সৃষ্টির শুরু থেকেই কি পৃথিবী এই একই গতিতে অবিরাম ঘুরে চলেছে? নাকি এই ঘূর্ণন সময়ের সাথে বৃদ্ধি বা হ্রাস পাচ্ছে?
পৃথিবীর এই বিরামহীন ঘূর্ণনের কারণ নিয়ে আলোচনা করার আগে, পৃথিবীর উৎপত্তি সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়।


পৃথিবী কেন ঘোরে?

লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী Smadar Naoz ব্যাখ্যা করেন, ‘সৌর জগতের পূর্বাবস্থায় সকল ভগ্নাবশেষ সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রায় একই দিকে ঘুরছিল। পৃথিবীর আকার যত বাড়তে থাকে, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট ভগ্নাবশেষের সাথে এর সংঘর্ষও বাড়তে থাকে। ফলে পৃথিবী ও সৌর জগতের প্রায় সবকিছু একটি নির্দিষ্ট দিকে ঘুরতে শুরু করে।‘

কিন্তু, প্রাথমিক অবস্থায় সৌরজগত কেন ঘুরছিল?

গ্যাস ও ধূলিকণা মেঘের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে অধিকাংশ গ্যাস ঘনীভুত হয়ে যখন সূর্য গঠন করে, তখন বাকি উপাদানগুলো সূর্যের চারপাশে ভাসতে থাকে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কিছু গ্যাস এবং ধূলিকণা তাদের দিক পরিবর্তন করে ঘুরতে শুরু করে।

ফলে গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং মেঘের ঘূর্ণন গতি বৃদ্ধি পায়। গতি বাড়ানোর জন্য স্কেটাররা যেমন তাদের হাত এবং পা ভেতরের দিকে গুটিয়ে রাখে, এই ব্যাপারটাও ঠিক তেমনই।
মহাবিশ্বে কোনো কিছু একবার ঘুরতে শুরু করলে, এটি সাধারণত ঘুরতেই থাকে। ঘূর্ণায়মান সৌর জগতের কৌণিক ভরবেগের কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। কৌণিক ভরবেগ বস্তুর ঘুরতে থাকার প্রবণতা নির্দেশ করে। ফলে সৌর জগত গঠনের শুরু থেকেই সকল গ্রহ-নক্ষত্র প্রায় একই দিকে ঘুরে চলেছে। আমাদের পৃথিবীও একই কারণে নিজ অক্ষের উপর এবং সূর্যকে ঘিরে অবিরাম ঘুরছে।

কিছু গ্রহের আবার নিজস্ব গতি রয়েছে। যেমন, শুক্রগ্রহ, প্লুটো ও ইউরেনাস। পৃথিবী যেখানে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে। সেখানে শুক্রগ্রহ ঘুরছে পৃথিবীর বিপরীত দিকে অর্থাৎ, পূর্ব থেকে পশ্চিমে। প্লুটো ও ইউরেনাসের ক্ষেত্রেও একই ধরণের ঘূর্ণন গতি লক্ষ করা যায় ।

কিভাবে এই গ্রহগুলো তাদের পথ পেয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও, বিজ্ঞানীরা কিছু ধারণা দিয়েছেন। শুক্র গ্রহের ক্ষেত্রে সম্ভবত কোনো ধরণের সংঘর্ষ এর বিপরীত ঘূর্ণনের কারণ। আবার এমনও হতে পারে, প্রাথমিক অবস্থায় অন্য গ্রহের মত শুক্রও একই দিকে ঘুরতে শুরু করেছিল।
কিন্তু সময়ের সাথে গ্রহের পাতলা আবরণের উপর সূর্যের মধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং গ্রহের অন্তঃস্থল ও বাইরের উজ্জ্বল আবরণের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে এর দিক পাল্টে যায়।

২০০১ সালে নেচার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, সূর্য এবং অন্য উপাদানগুলোর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি শুক্রগ্রহের ধীর গতি এবং বিপরীত দিকে ঘোরার কারণ হতে পারে। ইউরেনাসের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা একটি বড় ধরণের সংঘর্ষকে এর বিপরীত গতির কারণ বলে মনে করেন। নাওজ বলেন, ঘূর্ণন এই মহাবিশ্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

গ্রহাণু ঘুরছে, নক্ষত্র ঘুরছে, এমনকি গ্যালাক্সিও ঘুরছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা অনুসারে, সৌর জগতের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৩০ মিলিয়ন বছর।
মহাবিশ্বের কিছু ঘন ও দ্রুত ঘূর্ণায়মান বস্তুর নাম পালসার, যা বৃহদায়তন নক্ষত্রের দেহাবশেষ। কিছু পালসারের ব্যাস প্রায় একটি শহরের সমান হয়ে থাকে এবং এগুলো সেকেন্ডে একশ বার ঘুরতে পারে। ২০০৬ সালে খেতাব পাওয়া সবচেয়ে দ্রুতগতির পালসার হল Terzan 5ad, যা সেকেন্ডে ৭১৬ বার ঘোরে।

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর এর থেকেও দ্রুততর। ২০০৬ সালের Astrophysical Journal Found এর এক গবেষণায় বলা হয়, GRS 1915+105 নামের একটি কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন গতি সেকেন্ডে প্রায় ৯২০-১১৫০ বার।
মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তুর গতি সবসময় বৃদ্ধি পাবে এমনটা নয়। এদের গতি হ্রাসও পায়। নাওজ বলেন, সূর্য গঠনের প্রাক্বালে এটি নিজ অক্ষের উপর চার দিনে একবার আবর্তন করত। বর্তমানে এর আবর্তনকাল ২৫ দিন।

এমনকি পৃথিবীর গতি ও সময়ের সাথে হ্রাস পাচ্ছে। পৃথিবীর উপর চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বল-ই এর গতি হ্রাস পাওয়ার কারণ। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি বিগত ২,৭৪০ বছরে প্রায় ৬ ঘণ্টা হ্রাস পেয়েছে।

অর্থাৎ, একশ বছরে পৃথিবীর গতি প্রায় ১.৭৮ মিলিসেকেন্ড করে কমছে। আগামী বছরগুলোতে সৌরজগতের উপর পৃথিবীর ক্রমহ্রাসমান গতি কিরূপ প্রভাব ফেলবে, সেটা হয়ত বিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবেন।

বিস্তারিত জানতে নিচের লিংক এ দেখুন:
https://www.ovijatri.com/%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%98%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%87/

ধন্যবাদ।

পৃথিবীর উৎপত্তি হয়েছিল কিভাবে?

পৃথিবীর উৎপত্তি হয়েছিল কিভাবে?


বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোটি কোটি বছর পূর্বে ছোট অথচ ভীষণ ভারী ও গরম একটা বস্তুপিন্ড বিস্ফোরিত হয়ে সকল দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ বিস্ফোরণ কে বলা হয় মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং। মহাবিশ্বের সকল শক্তি, পদার্থ এবং মহাকাশের সবকিছুর সৃষ্টি এই বিস্ফোরণ থেকে। মহাবিস্ফোরণের পর মহাকাশ বিভিন্ন গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘে পরিপূর্ণ ছিল। এই মেঘকে বলা হয় নেবুলা।

মহাকর্ষের কারণে এই গ্যাস ও ধূলিকণা গুলো পরস্পরের নিকটবর্তী হয়ে একসময় প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এদের কেন্দ্রীয় অংশের তাপমাত্রা ২০০,০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মত হলে হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে নিঃসৃত হতে থাকে বিপুল পরিমাণ তাপ ও আলোক শক্তি।

এভাবেই সৃষ্টি হয় মহাবিশ্বের প্রথম নক্ষত্রের। একই প্রক্রিয়ায় মহাবিশ্বের সকল নক্ষত্রেরও সৃষ্টি হয়।
আমাদের সৌরজগতের সূর্য এমনই একটি নক্ষত্র। নতুন জন্ম নেওয়া সূর্যের চারপাশেও ছিল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ। যা থেকে পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে এই ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ধূলিকণা একত্রিত হয়েই সৃষ্টি হয়েছিলো পৃথিবীর।

ধন্যবাদ।

দিগন্ত কুমার রায়
(প্রভাষক)
গাজীপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।

সৃজনশীল প্রশ্ন, মানমণ্টন

সৃজনশীল প্রশ্ন, মানমণ্টন




সৃজনশীল প্রশ্নের ভিত্তিতে এদেশে লেখাপড়া শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। শুরুতে নাম ছিল কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন। এ নামেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদের প্রস্তাব অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করে ‘সৃজনশীল প্রশ্ন’ নামকরণ করা হয়।

বৃটিশ শিক্ষাবিদ বেঞ্জামিন ব্লুম বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে মানুষের চিন্তন দক্ষতার ছয়টি স্তরের কথা বলেছিলেন। যথা : জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ও মূল্যায়ন। ব্লুমের বিভাজনে পরবর্তীতে আরেকটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যথা : স্মরণ করা, বুঝতে পারা, প্রয়োগ করা, বিশ্লেষণ করা. মূল্যায়ন করা ও সৃষ্টি করা। বাংলাদেশে শেষের তিনটিকে উচ্চতর দক্ষতা নাম দিয়ে কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের চারটি ভাগ করা হয়। এজন্য দেশব্যাপী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে যে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে এবং অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হচ্ছে তাও এই কাঠামোবদ্ধ বা সৃজনশীল প্রশ্নকে ঘিরে। আমরা প্রথমে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির আলোচনা করব, তারপর অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি ও শেষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিয়ে আলোচনা করব।

সৃজনশীল প্রশ্ন কী?
এটি এমন এক ধরনের প্রশ্ন, যা দ্বারা শিক্ষার্থীর চিন্তন দক্ষতার সকল স্তর পরিমাপ করা যায়। এ প্রশ্নের প্রথমেই থাকে একটি উদ্দীপক। উদ্দীপকটি পাঠ্য বইয়ের এক কিংবা একাধিক বিষয়/রচনাকে ইঙ্গিত করে তৈরি করা হয়। এটি কোন দৃশ্যকল্প, চিত্র, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি হ’তে পারে। উদ্দীপক মূলত প্রশ্ন বইয়ের কোথা থেকে করা হয়েছে এবং কী উত্তর লিখতে হবে তা স্মরণ করিয়ে দেয়। সৃজনশীল প্রশ্নে ‘ক ও খ’ প্রশ্ন পাঠ্য বই থেকে করা হয় এবং ‘গ ও ঘ’ প্রশ্ন উদ্দীপকের সাথে যুক্ত করে করা হয়। এমনভাবে করতে হয় যাতে পরীক্ষার্থী উদ্দীপকের কথা ব্যবহার না করে শুধু পাঠ্য বইয়ের ভিত্তিতে উত্তর দিতে না পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত নতুন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বই থেকে অর্জিত বিদ্যা ব্যবহার করে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটায়। এজন্যই সৃজনশীল প্রশ্নে উদ্দীপকের দরকার হয়। উদ্দীপকের অধীনে বাংলা গণিত ইত্যাদি বিষয় হিসাবে ৩টি থেকে ৪টি প্রশ্ন করা হয়। ৩টি হ’লে প্রথমটি অনুধাবন, দ্বিতীয়টি প্রয়োগ ও তৃতীয়টি উচ্চতর দক্ষতামূলক। আর ৪টি হ’লে প্রথমটি হবে জ্ঞানমূলক, দ্বিতীয়টি অনুধাবন, তৃতীয়টি প্রয়োগ এবং চতুর্থটি উচ্চতর দক্ষতামূলক।

জ্ঞান কী, জ্ঞানমূলক প্রশ্নের বৈশিষ্ট্য কী, এরূপ প্রশ্নের উত্তর কীরূপ?
জ্ঞা+অনট=জ্ঞান শব্দের অর্থ চেতনা বা স্মৃতিতে কোন কিছু ধারণ করা এবং প্রয়োজন মুহূর্তে তা হুবহু প্রকাশ করা। জ্ঞান বই পড়ে, চোখে দেখে, কানে শুনে এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়। অবশ্য পরীক্ষায় আগত জ্ঞানমূলক প্রশ্ন একান্তই পাঠ্য বই নির্ভর হওয়ার কথা।
জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর একটাই। যতজন তার উত্তর করবে ততজনের একই উত্তর হবে। এটি এক শব্দে কিংবা এক বাক্যে লিখতে হয়।
এ প্রশ্নের উত্তর সঠিক হ’লে পরীক্ষার্থী এক নম্বর পাবে। কোন ভগ্নাংশ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নে নেই। কারণ দক্ষতার স্তরগুলোর মধ্যে কোন ভাগবাঁটোয়ারা নেই। এ প্রশ্নের উত্তরে বানান ভুল হ’লে কিংবা তথ্যগত ভুল থাকলে কোন নম্বর মিলবে না। উদ্দীপকের অধীনে দ্বিতীয় বা ‘খ’ প্রশ্ন অনুধাবনমূলক এবং তার মান ২।

অনুধাবন কী, প্রশ্নের প্রকৃতি কীরূপ, লেখার কৌশল কী এবং নম্বর কীভাবে দিতে হবে?
অনুধাবন অর্থ বুঝতে পারা। পাঠ্য বইয়ের বিষয় পড়ার মাধ্যমে নিজে কিংবা শিক্ষকের সাহায্যে সঠিকভাবে বুঝতে পারার নাম অনুধাবন। সঠিক অনুধাবন জ্ঞানকে অবলম্বন করে অর্জিত হয়। কাজেই প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান না থাকলে সঠিক অনুধাবন হবে না।
অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর বইয়ে থাকতে হবে; তবে শিক্ষার্থী নিজের ভাষায় তা লিখবে। হুবহু বইয়ের ভাষা তুলে দিলে তা হবে জ্ঞানমূলক।
এ প্রশ্নের প্রকৃতি এই যে, এর শেষে ‘কাকে বলে, ‘কেন, কীভাবে, কী বুঝ, উদাহরণ দাও, বুঝিয়ে লেখ, ব্যাখ্যা কর ইত্যাদি শব্দ থাকে। যেমন- তাওহীদে বিশ্বাস করতে হবে কেন? ব্যাকরণ শেখার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে লেখ।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বাক্যের মধ্যে লিখতে হয়। কম-বেশি হ’লে দোষ নেই। তবে সঠিকভাবে অনুধাবন ফুটিয়ে তুলতে হবে। উত্তর প্যারা করেও লেখা যাবে, আবার প্যারা না করলেও অসুবিধা নেই। উত্তর সঠিক হ’লে শিক্ষার্থী ২-এ ২ পাবে। উত্তর জ্ঞান স্তরে হ’লে ১ পাবে এবং ভুল হ’লে ০ পাবে।


উদ্দীপকের অধীনে তৃতীয় বা ‘গ’ প্রশ্ন প্রয়োগমূলক এবং তার মান ৩।

প্রয়োগ কী, এ প্রশ্নের শেষে কী ধরনের শব্দ থাকে, লেখার নিয়ম কী এবং কীভাবে নম্বর দিতে হয়?
প্রয়োগ অর্থ পাঠ্য বই থেকে অর্জিত বিদ্যা নতুন ক্ষেত্রে/পরিস্থিতিতে আরোপ করা। এ ক্ষেত্রে জানা আবশ্যক যে, প্রশ্নমালায় উদ্ধৃত প্রত্যেকটি উদ্দীপক একেকটি নতুন ক্ষেত্র। তাই উদ্দীপক এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে পঠিত বিষয়ের উপর তা আলোকপাত করে এবং সে আলোয় আলোকিত হয়ে শিক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারে। বইয়ের পঠিত বিষয় উদ্দীপকে বর্ণিত নতুন ক্ষেত্রের সাথে মিলিয়ে দেওয়াই অর্জিত বিদ্যা নতুন ক্ষেত্রে ব্যবহার। উদ্দীপক শব্দের মধ্যেও আলোকপাতের অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। উদ্দীপক = উৎ (উপসর্গ)- দীপ (ধাতু)+ণক (প্রত্যয়)। উৎ উপসর্গ উৎক্ষেপণ অর্থে এসেছে। দীপ অর্থ আলো, বাতি। ণক/অক প্রত্যয় কর্ম সম্পাদন অর্থ দিয়ে থাকে। অতএব উদ্দীপক তাই, যা কোন কিছুর উপর আলোকপাত করে। আসলেও উদ্দীপক শিক্ষার্থীর জন্য পঠিত বিষয়ের উপর আলোকের কাজ করে। যার ভিত্তিতে সে পঠিত বিষয় স্মরণ করে লিখতে পারে। তাকে মুখস্থ করতে হয় না। এখানেই মূলতঃ সৃজনশীল প্রশ্নের সার্থকতা।

প্রয়োগমূলক প্রশ্নের শেষে সাধারণত ‘ব্যাখ্যা কর’, ‘চিহ্নিত কর’, ‘মিল দেখাও’, ‘সাদৃশ্য/বৈসাদৃশ্য নির্ণয় কর’, ‘পার্থক্য নির্ণয় কর’, ‘বৈপরীত্য দেখাও’ ‘সমাধান কর’ ইত্যাদি শব্দ/বাক্যাংশ থাকে।
প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে প্রথমে উদ্দীপকের ভিত্তিতে রচিত ‘গ’ প্রশ্নের বাক্যকে বিবৃতিমূলক বাক্যে রূপান্তর করে তাকে উত্তরের প্রথম বাক্য গণ্য করে লেখা শুরু করবে। বইয়ের পাঠ্যাংশের সাথে মিল করতে যে দু-একটি বাক্য না লিখলে নয় তা লিখেই পাঠ্য বইয়ের যে অংশের ভিত্তিতে উদ্দীপক রচিত সেখানে চলে যেতে হবে। তারপর উদ্দীপকের সাথে মিল রেখে বইয়ের কথা নিজের অনুধাবন অনুসারে লিখতে থাকবে। এভাবে বইয়ের কথা নিজের ভাষায় উদ্দীপকের চাহিত বিষয়ের সঙ্গে মিল করে ফুটিয়ে তোলাই সৃজনশীলতা।

সাধারণত বইয়ের বিষয়টি উত্তরে ফুটিয়ে তুলতে ৫ থেকে ৮ বাক্য এবং পুরো উত্তর ১২/১৩ বাক্যে লিখতে হয়। মনে রাখতে হবে, ‘গ’ প্রশ্নের উত্তর লিখতে অনেক পরীক্ষার্থী শুধু উদ্দীপক ইনিয়ে বিনিয়ে বড় করে লেখে কিংবা উদ্দীপক পুরো তুলে দিয়ে বইয়ের কথা দু-তিন বাক্যে লিখে উত্তর শেষ করে উদ্দীপকের সাথে পাঠ্য বিষয়ের কোন যোগ দেখায় না। কেউ বা আবার উদ্দীপকের কথা বেশী পরিমাণে লিখে বইয়ের কথা দু-এক বাক্য লিখে আবার উদ্দীপকের সাথে তার মিল দেখিয়ে উত্তর শেষ করে। উদ্দীপক নয় বরং বইয়ের তথ্য বেশী পরিমাণে প্রদান করতে হবে এবং বইয়ের তথ্য উদ্দীপকের নতুন ক্ষেত্রে ব্যবহার দেখিয়ে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার্থী প্রয়োগ
 সঠিক ভাবে করতে পারলে ৩-এ ৩ পাবে। উত্তর অনুধাবন স্তরে পৌঁছলে ২ পাবে, আর জ্ঞান স্তরে থাকলে ১ পাবে এবং ভুল হ’লে ০ পাবে।
উদ্দীপকের অধীনে চতুর্থ বা ‘ঘ’ প্রশ্নটি হ’ল উচ্চতর দক্ষতামূলক এবং তার মান ৪।
উচ্চতর দক্ষতা কী, প্রশ্নের শেষে কোন ধরনের শব্দ থাকে, উত্তর লেখার নিয়ম কী এবং কীভাবে নম্বর দিতে হবে?
আগেই বলা হয়েছে, উচ্চতর দক্ষতা বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ও মূল্যায়নের একত্রিত নাম। কাজেই উচ্চতর দক্ষতা বুঝতে হ’লে বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ও মূল্যায়নকে আলাদা করে বুঝতে হবে।

বিশ্লেষণঃ কোন সমগ্র বা পূর্ণকে অংশে অংশে বিভক্ত করে দেখানোকে বিশ্লেষণ বলে। যেমন- ‘একটি ফুল বিশ্লেষণ কর’-প্রশ্ন করা হ’লে যদি শিক্ষার্থী ফুলের পাঁচটি অংশ যথা- বৃন্ত, বৃতি, পাঁপড়ি, পুংকেশর ও স্ত্রীকেশর উদ্ধৃত করতে পারে তাহ’লে বিশ্লেষণের উত্তর হবে।

 ধন্যবাদ।
দিগন্ত কুমার রায়

শীতকালীন ফলের পুষ্টিগুন

  শীতকালিন ফলের পুষ্টিগুন


নানা ধরনের বৈচিত্র্যতায় আর নতুনত্বে শীত অন্যান্য ঋতু থেকে আলাদা। ফ্যাশন থেকে শুরু করে তাই নিত্যদিনের খাবার তালিকাতেও এর উপস্থিতি চোখে পড়ে। শীতের এ সময়ে খাবার তালিকাতে আসে বেশ পরিবর্তন।
খাবার তালিকার কেবল শাক সবজি নয় ফলের দিক থেকে শীতের এ সময়ে দেখা মেলে নানা ধরনের মুখরোচক ফলের।

শীতের এ সময়ে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ফলের সমারোহ অনেকাংশে বেশি দেখা যায়।
শীত এলে কিছু মৌসুমি ফলও চলে আসে বাজারে,দেখা মেলে বরই, জলপাই, আমলকি, সফেদা, কমলালেবু, আপেল আর ডালিমের। এসব ফলে আছে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘ই’, এন্টিঅক্সিজেন, ফাইবারসহ আরও অনেক ভিটামিনের। এসব মৌসুমি ফল কেবল মুখরোচকই নয়, এতে থাকা নানা ভিটামিন এবং মিনারেলসহ ফাইবার দাঁত, মাড়ি মজবুত করতে যেমন সাহায্য করে তেমনি নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি চাই ভেতর থেকে সুস্থতা। শীতে কিছু ফল আপনাকে সজীবতা ও সুস্থতা দেবে। শরীরে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি মেটাতে ও ভিটামিন ‘সি’র জোগান দিতে শীতের সময় বেশি করে টকজাতীয় ফল খেতে পারেন।

শীতকালীন এরকম কিছু ফলের বিস্তারিত পুষ্টিগুন নিয়ে আজঃ


১. বরইঃ
হজমের জন্য এই ফল ভালো। এটি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট-সমৃদ্ধ। ফ্লু, হাঁপানি, কোলন ক্যানসার ও বাতের ব্যথা সারাতে বরই বেশ উপকারী। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের তথ্য অনুযায়ী, বরইয়ে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ আছে নানা কিছু। রোগ প্রতিরোধে যেমন ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। বরই সবার জন্য ভালো হলেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কিন্তু না। পাকা বরইয়ে চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পাকা বরই না খাওয়াই ভালো।

২. পেয়ারাঃ
শীতকালেও আপনি বাজারে পেয়ারা পাবেন। স্বাদ, পুষ্টিগুণ আর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখলে পেয়ারা খেলে প্রচুর লাভ। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখা যেতে পারে। এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘সি’ ও লাইকোপেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি। পেয়ারার বিশেষ পাঁচটি গুণের মধ্যে রয়েছে এটি ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, চোখের জন্য ভালো, পেটের জন্য উপকারী আর ক্যানসার প্রতিরোধী। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, যা কমলালেবুর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। পেয়ারায় আছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। এতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও নিকোট্রিন অ্যাসিড। বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ, যেমন: স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার), চোখে ছানি, আরথ্রাইটিস বা হাঁটুব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

৩. কমলাঃ
পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহারের তথ্য অনুযায়ী, বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে কমলায়। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, সর্দি-কাশি সারায়, মানসিক অবসাদ দূর করে। জ্বর ও ফ্লুর সময় কমলা খাওয়া ভালো। কোয়ার পাতলা ত্বকে আঁশ আছে বলে কোষ্ঠকাঠিন্যও কমাবে। কমলার রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম আছে। রক্তশূন্যতা ও জিবের ঘা সারাতেও কমলা উপকারী।

৪. জলপাইঃ
শীতে প্রচুর জলপাই ওঠে বাজারে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, ‘ই’, লৌহ ও অসম্পৃক্ত চর্বি। ফলে এটি স্থূলতা কমায়, শরীরে উপকারী চর্বি বাড়ায়। বাতের ব্যথা, হাঁপানি উপশমে জলপাই কার্যকরি ভূমিকা রাখে।এছাড়া টক জাতীয় এ ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন-ই। এ ভিটামিনগুলো দেহের রোগজীবাণু ধ্বংস করে, উচ্চরক্তচাপ কমায়, রক্তে চর্বি জমে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে হৃৎপিন্ডের রক্তপ্রবাহ ভাল রাখে। এতে হৃৎপিন্ড থেকে বেশি পরিশোধিত রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছায়, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে। জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে আঁশ জাতীয় উপাদান। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়, কোলনের পাকস্থলির ক্যানসার দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

৫. আমলকীঃ
ভিটামিন ‘সি’তে ভরপুর আমলকী খেলে দাঁত, চুল, ত্বক ভালো থাকে। এটি খাওয়ার রুচি বাড়ায়। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, অম্ল, রক্তাল্পতা, বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে। কমলার তুলনায় আমলকীতে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ আছে।

৬.সফেদাঃ
অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টি উপাদানে ভরপুর খুবই নরম আর তুলতুলে একটি ফল হলো সফেদা। সারা দেশেই ফলটি পাওয়া যায়। দারুন সব পুষ্টিগুণ থাকার কারণে সফেদা স্বাস্থ্যসম্মত। সফেদা চোখের জন্য খুবই উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন `এ` যা চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি-ও চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। সফেদায় প্রচুর পরিমানে ভিটামিন `সি` থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আর একারণে এটি সর্দি- কাশি সারাতেও দারুন কার্যকরী।

পাকা সফেদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, কপার, আয়রন। এসব খাদ্য উপাদান মেটাবলিক ফাংশন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সফেদায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য  করে।এছাড়া সফেদা ত্বক।উজ্জ্বল রাখে,চুলের চকচকে ভাব বজায় রাখে।সফেদা কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে রাখে।

৭.ডালিমঃ
ডালিম যদিও আগের মতো পুরোপুরি শীতকালীন ফল নেই আর। প্রায় সারাবছরই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ডালিম। কিন্তু শীতের দেশি ডালিমের আকর্ষণটা বোধহয় একটু আলাদা। এই ডালিম কারো কাছে বেদানা, আবার কারো কাছে আনার নামে পরিচিত। প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এই ফল হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে, রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি।

এসব ফলের প্রতিটির ই কিছু না কিছু পুষ্টিগুন রয়েছে।প্রত্যেক প্রকারের ফল ই খাওয়া উচিত।সম্ভব হলে এগুলোর মিক্সার বা ফ্রুট সালাদ তৈরি করে খান।এসব ফল আপনার যেভাবে পছন্দ হয় সেভাবেই খান, খাদ্যতালিকা থেকে যেনো বাদ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।বিশেষ করে অল্পবয়সি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভালো বৃদ্ধির জন্য এগুলো খুব উপকারি।শীতকাল হচ্ছে এমন এক সময় যে সময়ে বাজারে এসব মৌসুমি ফল এর পাশাপাশি আরও প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি পাওয়া যায়।এসব খাবার সুস্থ থাকার জন্য খুব দরকারি।তাই এই সময়ে মৌসুমি খাবারে প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

ধন্যবাদ। 

শীতকালীন ব্যাধি ও তার প্রতিকার

শীতকালীন ব্যাধি ও তার প্রতিকার 


শীতকাল কিন্তু প্রায় উঁকি দিচ্ছে। যদিও বাংলা পঞ্জিকার হিসাব মতে পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই শীতের একটা আমেজ সবাই কমবেশি উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। এই যে হঠাৎ  আবহাওয়া ও জলবায়ুর এ পরিবর্তন তাতে কিন্তু অনেকেই সহজে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেন না। আবহাওয়া ও জলবায়ুর এই পরিবর্তনের এ সময়টাতে অনেকেই নানা অসুখে ভুগতে শুরু করেন। শীতের এই আসন্ন সময়টা অনেক মানুষকে প্রায়ই চরমভাবে ভোগায়। এ সময়টাতে নানা অসুখ-বিসুখ মানুষকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দেয়। যেমন সর্দি-কাশি-হাঁচি ও নিঃশ্বাসে কষ্ট। এ সময় কারও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা হলে তা সহজে না সারার প্রবণতাসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরকে খাপ খাওয়ানোর সময়ে বিভিন্ন শীতকালীন অসুখ আমাদের শরীরে আক্রমণের সুযোগ নেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কারণে আবহাওয়া ও পরিবেশেরও পরিবর্তন হয়ে থাকে। কারও কারও অ্যালার্জি সমস্যা এ সময়ে বাড়ে। এমনটা ঘটে কারণ আমাদের শরীর কোনো পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনের জন্য সময় নেয়। তাই হঠাৎ এই তাপমাত্রা বা আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষকে নানা অসুখে ভোগানোর জন্য দায়ী। কিন্তু কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে সহজেই এগুলোকে দূরে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তেমন কিছু রোগ সম্পর্কে জেনে রাখুন-

ভাইরাস জ্বর : 

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাস জ্বরের অবির্ভাব বেশ পরিচিত একটা সমস্যা। শীতকালেও আমরা এই সমস্যায় ভুগি। শীতকালে ভাইরাস জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। বিভিন্ন ভাইরাস যেমন- অ্যাডিনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি মূলত ভাইরাস জ্ জন্য দায়ী। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও যাদের শরীরে অন্য রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল জাতীয় খাবার, বিশেষত খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবু-চিনির শরবত এ সময়টায় বেশ উপকারী। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে । প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে ঠাণ্ডা পানীয় ও আইসক্রিম সম্পূর্ণ নিষেধ। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। যাদের ক্রনিক ডিজিস আছে তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। ছয় মাস বয়সের পর শিশুকেও ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে।



অ্যালার্জি ও অ্যাজমা :

শীতকালের বেশ পরিচিত সমস্যা হচ্ছে অ্যালার্জি ও অ্যাজমা। শীতকালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগ দুটি অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে হয়, যদিও কোনোটির প্রকাশ আগে হতে পারে। বারবার সর্দি-হাঁচি-কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বুকে চাপ সৃষ্টি করে ও আওয়াজ হয়। এ সময় ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়। যেসব কারণে অ্যালার্জি হয় সেসব থেকে দূরে থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অ্যালার্জির ওষুধ, নাকের স্প্রে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ইনহেলারও ব্যবহার করতে হতে পারে।

শীতের সময় অনেকে আবার সাইনোসাইটিসের সমস্যায় ভোগেন। সাইনোসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে বারবার মাথা ধরা, সর্দি-কাশির প্রবণতা, কাশতে কাশতে বমি হওয়া, জ্বর ইত্যাদি। কোনো কিছুতে অ্যালার্জি থাকলে সেদিকে নজর দিতে হবে। অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকস খাওয়াও জরুরি। তবে তা যেন অতিরিক্ত পর্যায়ের না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ফুসফুসের সংক্রমণ : 

শীতের সময় অনেকে আবার ফুসফুসের সংক্রমণের সমস্যায় ভোগেন। ফুসফুসের সংক্রমণকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক সংক্রমণ যা সাধারণত ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। আর লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক সংক্রমণ যা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। তবে ভাইরাল নিউমোনিয়াও হতে পারে। জ্বর, কাশি, কফ, শরীর ব্যথা ও বমি বমি ভাব হলো ফুসফুস সংক্রমণের লক্ষণ। তবে ভাইরাল নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে সর্দি-হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়ার লক্ষণও দেখা দিতে পারে। সাধারণত শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এগুলো বেশি দেখা যায়। শীতে এসব রোগের হাত থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখতে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক প্রয়োজনীয় টিপসগুলো :

শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রতিদিন উষ্ণ গরম পানি বা যে কোনো গরম পানীয় যেমন- চা, কফি, স্যুপ, দুধ খাওয়া ভালো। তাতে শরীরের  উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় ও বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস কম ক্ষতি করে।
বেশি শীতে শুধু একটা ভারী কাপড় না পরে, একাধিক পোশাক পরিধান করুন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারী হলো হালকা কোনো কাপড় যা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন কিছু নিচে পরা, তার উপরে কয়েক লেয়ারে ফুল অন্যান্য জামা-কাপড় পরা। এটা বেশি ঠাণ্ডায় সবচেয়ে কার্যকরী।
প্রতিদিন কিছু পরিমাণ কালিজিরা রান্না করে বা রান্না ছাড়া খেতে পারেন। কালিজিরা প্রায় ৩০০ রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

শীতে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি ঠাণ্ডা লাগার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

প্রতিদিন খাবারে রসুন ব্যবহার করুন। কারণ কাঁচা রসুন ঠাণ্ডা লাগা কমায়।
ঠাণ্ডা লাগলে বা কাশি হলে আদা ও লবঙ্গ অত্যন্ত কার্যকরী। আদা ও লবঙ্গের রস ঠাণ্ডা কাশি কমাতে সহায়ক। আদা ও লবঙ্গ দিয়ে চা খুবই কার্যকর।

শীতের সকালে-বিকালে নাক বন্ধ মনে হলে নাকে গরম পানির ভাপ নিলে ভালো বোধ হয়। উপকার বেশি পেতে হলে গরম পানিতে কিছু ফিটকিরির টুকরা দিয়ে গরম ভাপ নিলে নাক বন্ধ হওয়া কমে যায়।

সরিষার তেল শরীর গরম রাখে যা ঠাণ্ডা লাগার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
শীতে পানি খাওয়া কম হয়। যে কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। সেই জন্য পানি জাতীয় গরম খাবার বেশি খেতে হয়।

শীতকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বেশি প্রয়োজন। শীতে ধুলাবালি বেশি থাকায় তাতে রোগ-জীবাণু বেশি থাকে এবং সে কারণে অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।  তাই অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চললে যত ঠাণ্ডাই পড়ুক না কেন এই শীতে আপনিও সুস্থ থাকতে পারবেন।

ধন্যবাদ।

অনুধাবন/Realization

অনুধাবন

https://www.prothomalo.com/special-supplement/article/1560141/%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8

দিগন্ত কুমার রায়

আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:২৪
দিগন্ত কুমার রায়। ছবি: লেখকদিগন্ত কুমার রায়। ছবি: লেখক

আমার শিক্ষকদের মধ্যে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন শ্রদ্ধেয় ভোলানাথ বর্মা স্যার। তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। পড়াশোনার খোঁজখবর নিতেন, অনেক সহযোগিতাও করতেন। ওনার সঙ্গে স্কুল জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একদিন ক্লাসে হাতের লেখা অনেকেই নিয়ে আসিনি। তো যথারীতি যা হওয়ার তাই, সবাইকে দাঁড়াতে বললেন, দাঁড়ালাম। ওনার হাতের মাইরের চেয়ে কথার মাইর ছিল অধিক জোরালো। কিন্তু সেদিন পরিবেশ ছিল কিছুটা ভিন্ন। সেদিন আর কথার মাইর হলো না। সামনে থেকে সিরিয়াল ওয়াইজ ধামাধাম রিঅ্যাকশন শুরু হয়ে গেল। শেষের একজনের আগে ছিল আমার সিরিয়াল। তিন জনের মাইরের সিরিয়াল শেষ হতে না হতেই ঘণ্টা বেজে উঠল। আমার আনন্দ আর দেখে কে। স্যার কয়েকটি কড়া ভাষায় ঝাড়ি মেরে ক্লাস শেষ করে শিক্ষক মিলনায়তনে চলে গেলেন। আমি সেদিনের মতো বেঁচে গেলাম।

কিন্তু ঘটনাটি এ রকমভাবে হয়নি। ......... ঘণ্টা শোনার পর স্যার থেমে গেলেন এবং ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলেন, এরপর আট-দশ জনকে ওভারটেক করে আমার খাতা না নিয়ে আসার পাওনা আমার পিঠের ওপর বামপাশে কয়েক সেকেন্ডে বজ্রপাতের মতো বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। এর অর্থ সেদিন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু এখন ভাবলে মনে হয়, হয়তো সেই ঘটনার জন্যই আজ আমার হাতের লেখা অনেকেই পড়তে পারে। বর্ণগুলোর আকৃতি বুঝতে পারেন। আমি স্যারের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।


.

অজ্ঞান হলে করণীয়

অজ্ঞান হলে করণীয়



অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, মূর্ছা যাওয়া, সংজ্ঞা হারানো বা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া যেভাবেই বলা হোক না কেন, ব্যাপারটির সঙ্গে পরিচয় আছে সবারই। অনেকে নিজে এই অবস্থায় পড়েছেন। আবার অন্যকে চোখের সামনে জ্ঞান হারাতে দেখেছেন। চলতি পথে, কর্মস্থলে, বাড়িতে হঠাৎ কাউকে অচেতন হয়ে পড়তে দেখলে আপনি কী করবেন? অসুস্থ ব্যক্তির সহায়তায় এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য। এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে প্রাথমিক কিছ– পদক্ষেপ নিলে হয়তো মানুষটার জীবন রক্ষা পাবে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নানা কারণে মানুষ জ্ঞান হারাতে পারে। বুকে বা মাথায় আঘাত, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, শরীরে পানিশূন্যতা বা লবণশূন্যতা, রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস, হঠাৎ রক্তচাপ হ্রাস, হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে ঘাটতি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, মৃগীরোগ ইত্যাদি কারণে মানুষ হঠাৎ অজ্ঞান হতে পারে। ওষুধ বা অ্যালকোহলের প্রতিক্রিয়া, এমনিক বিষক্রিয়াও হতে পারে কারণ। আপনার সামনে যে কেউ যে কোনো সময় এমন অবস্থার শিকার হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটি জীবন রক্ষা করতে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রত্যেকেরই কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন।’

কেউ জ্ঞান হারালে আপনার করণীয়

প্রথমে রোগীর চেতনা কতটুকু আছে বোঝার চেষ্টা করুন। জোরে ডাক দিয়ে দেখুন সাড়া দেয় কিনা।
নাকের কাছে হাত দিয়ে বা বুকের ওঠানামা দেখে বোঝার চেষ্টা করুন শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কিনা।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে দিন। শোয়ানোর সময় চিত বা উপুড় না করে একদিকে কাত করে রাখুন, এতে মুখে জমা লালা গলায় আটকে যাবে না।
মাথার পেছনের দিকে সামান্য হেলিয়ে দিন, যেন মুখ খোলা থাকে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহজ হবে।

টাইট কাপড় পরে থাকলে কাপড় আলগা করে দিতে হবে, বিশেষ করে বুকের, গলার আর কোমরের।
বাতাসের ব্যবস্থা করুন। ফ্যান না থাকলে পত্রিকা বা যে কোনো বস্তু দিয়ে বাতাস করুন।
ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ ও ঘাড় মুছে দিন।
শ্বাস বন্ধ থাকলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে।
রোগীর কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করুন আপনি ঠিক আছেন কিনা।
যদি শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক থাকে, তবে ৩ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফিরে তা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

যা করা উচিত নয়

অচেতন ব্যক্তিকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না, মুখে পানি দেবেন না। জ্ঞান হারালে অনেকেই নাকের কাছে জুতা বা স্যান্ডেল ধরেন। এটা উচিত নয়। একইভাবে অজ্ঞান ব্যক্তির মুখে বা গালে চড়থাপ্পড় মেরে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।
পূর্বলক্ষণ

জ্ঞান হারানোর আগে কিছু পূর্বলক্ষণ দেখা যায়। যা থেকে আপনি নিজে কিংবা অন্য কারো মাঝে এমন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে পারেন :

চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া
শরীর হঠাৎ ঠা-া হয়ে যাওয়া
প্রচুর ঘামতে থাকা
বমি বমি ভাব
মাথা ঘোরা
সামনের সব বস্তু ঝাপসা দেখা
দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া
লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন
জ্ঞান হারানোর এক বা একধিক লক্ষণ নিজের মধ্যে দেখা দিলে তাৎক্ষণিক কিছু সতর্কতা আপনাকে পরবর্তী বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবে। যদি মনে হয় যে পড়ে যাবেন, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে শুয়ে পড়–ন। এমনভাবে শোয়ার চেষ্টা করবেন, যেন মাথার চেয়ে পায়ের অবস্থান কিছুটা উঁচুতে হয়। পায়ের নিচে বালিশ বা অন্য কোনো বস্তু রেখে সহজইে এই ব্যবস্থা করতে পারেন। যদি শোয়ার মতো অবস্থায় না থাকেন, তবে হাঁটু ভাঁজ করে, মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে বসে পড়ান।

সতর্কতা

এমন পরিস্থিতি পরিহার করুন, যাতে আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস আছে যাদের, তাদের পকেটে সব সময় চকোলেট রাখুন।
 অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না।
এক স্থানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
গরমকালে প্রচুর পানি পান করুন।

ধন্যবাদ। 

ডায়াবেটিস / Diabetic রোগীর ব্যায়াম-০৩

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম-০৩

- ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ব্যায়াম বয়স বৃদ্ধিতে কমাতেও উপকারি। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন
তাদের একই বয়সের লোকদের থেকে কম বয়স্ক দেখায়।
- নিয়মিত ব্যায়াম যৌন ক্ষমতা অটুট রাখে।
- ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধেও উপকারী নিয়মিত ব্যায়াম করলে
ডায়াবেটিস দেরিতে হবে অথবা নাও হতে পারে।
ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীরা কি ধরনের ব্যায়াম করবেন ?
বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম।
যেমন -
১। এরোবিক ব্যায়াম
২। স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
৩। স্ট্রেচিং বায়াম
৪। ব্যালান্সিং ব্যায়াম
এরোবিক ব্যায়ামঃ-
সাধারন ভাবে ব্যায়াম বলতে যে গুলোকে বোঝায় তা হল এরবিক বায়াম।
যেমন - হাটা দৌড়ানো, জগিং, বাই সাইকেল চালান,সাঁতার কাটা ইত্যাদি। এই ব্যায়ামে শরীরের অনেক গুলো মাংশপেশী অনেক ক্ষন ধরে কাজ করে ফলে শক্তি ক্ষয় হয়।এই ব্যায়ামে নাড়ীর গতি শ্বাসপ্রশ্বাস, বাড়বে।
স্ট্রেংথেনিং ব্যায়ামঃ-
স্ট্রেংথ মানে হল শক্তি।মাংশপেশীর শক্তি বাড়ানোর জন্য এই ধরনের ব্যায়াম। এই বায়ামে কাজ করতে হয় বেশী যেমন ওজন তোলা বা স্প্রিং টানা ইত্যাদি।
স্ট্রেচিং ব্যায়ামঃ
মাংশপেশী এবং গিঠের জড়তা কাটিয়ে সচল করাই হল এই ব্যায়ামের উদ্দেশ্য।এরবিক ব্যায়াম শুরু করার আগে স্ট্রেচিং করা উচিত।
ব্যালান্সিং ব্যায়ামঃ-
ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই বায়াম।যেমন এক পায়ের উপর দাঁড়ানো। এই ব্যায়াম চলাচল করতে সাহায্য করে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করে।
সপ্তাহে কয়দিন কতক্ষন ব্যায়াম করবেন?
সপ্তাহের অধিকাংশ দিন (কমপক্ষে দিন) এবং দিনে ৩০ মিনিট এরোবিক ব্যায়াম অধিকাংশ সুফল বয়ে আনে। এক নাগাড়ে ৩০ মিনিট ব্যায়াম না করতে পারলে ১০ মিনিট করে দিনে বার ব্যায়াম করলেও হবে। প্রতিদিন বার খাওয়ার আগে ১০ মিনিট করে ব্যায়াম একটা সুবিধাজনক ব্যায়াম।
ব্যায়াম করার কোন নিয়মাবলী আছে কি ?
ব্যায়াম শুরু করতে কোন সমস্যা নেই তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কোন জটিলতা আছে কিনা তার জন্য ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া ভাল
অল্প ব্যায়াম দিয়ে শুরু করবেন ধীরে ধীরে বাড়াবেন। প্রতিদিন মিনিট করে বাড়িয়ে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ মিনিট করে ব্যায়াম করা আপনার লক্ষ্য থাকবে।
ব্যায়াম শুরুতে কিছুক্ষন অল্পস্বল্প ব্যায়াম করে নেবেন যেটা হলওয়ার্ম আপসাথে
কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম এবং শেষ করার সময় হঠাৎ করে থেমে যবেন না শেষ মিনিট আস্তে আস্তে কমিয়ে ব্যায়াম করা থামাবেন যেটা হলকুল ডাউন
যত বেশী ব্যায়াম করবেন তত বেশী শক্তি ক্ষয় হবে এবং গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রনে রাখা তত সহজ হবে। এরোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম করতে হবে সপ্তাহে / দিন। এটা হতে পারে ওজন ওঠান নামানো বা স্প্রিং টানা।
ব্যায়াম শুরুর আগে কি কি বিষয় ঠিক করে নেওয়া উচিত ?
কি বায়াম করবেন
কতক্ষন করবেন
কতবার করবেন
কখন করবেন
কি ধরনের পোষাক, জুতো পরবেন।
ইচ্ছাকৃত ব্যায়াম না করতে পারলে অন্য কি ব্যায়াম করতে পারেন।
কিভাবে ব্যায়াম বাড়াবেন।
কতদুর যাবেন।
কখন ব্যায়াম করবেন না ?  
এটা নির্ভর করবে আপনার দৈনন্দিন কাজ, খাবারের সময়, ডায়াবেটিসের জন্য কখন কি ঔষধ খাচ্ছেন ,রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ইত্যাদির উপর।
১। রক্তে খাওয়ার পর গ্লুকোজের মাত্রা ৩০০ মি গ্রা বা খালি পেটে ২৫০ মি গ্রা এর
উপর থাকলে ব্যায়াম করবেন না।
২। খাওয়ার পর-পরি ব্যায়াম করবেন না।
৩। আমাদের মত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে তাপমাত্রাও মাথায় রাখার বিষয়। প্রচণ্ড
রোদের মধ্যে ব্যায়াম করবেন না কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রাতে শরীর থেকে
পানি বেরিয়ে পানিশুন্যতা দেখা দিতে পারে সেই হিসাবে ভোর বা সন্ধ্যাতে
ব্যায়াম করাই উত্তম।
ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় লক্ষ্য করা উচিত ?
জোরে জোরে হাটা সবচে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। তবে পারিপার্শিকতা মাথায় রাখা ভাল।
- যেমন হাটুতে যদি অস্টিওয়ারথ্রাইটিস (এই বয়সে সাধারনত থাকে) থাকে,
বা নার্ভের ক্ষতির কারনে পায়ে অনুভুতি কম থাকে তখন তখন হাটলে হাটুর
ব্যাথা বাড়তে পারে বা পায়ে ফোসকা পড়ে ঘা হতে পারে।
- হাটার সময় মাপসই আরামদায়ক জুতো তুলার মোজা ব্যাবহার করবেন।
হাটার পর সব সময় পা পরীক্ষা করে দেখবেন যখনি পায়ে ফোসকা কাটা,
ব্যাথা বা পা লাল হওয়া দেখবেন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
ব্যায়াম এর কারনে কি ব্লাড সুগার কমে যেতে পারে ?
আপনি যদি ইনসুলিন নেন, সালফোনিউরিয়া বা মেগ্লিটিনাইড ডায়াবেটিসের ঔষধ খান তবে ব্যায়ামের ফলে রক্তে গ্লূকোজ়ের মাত্রা বিপদজনক ভাবে কমে যেতে পারে। এটাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষন হল -
o
মাথা ঘোরা,
o
নাড়ীর গতি বেড়ে যাওয়া,
o
ক্ষুধা লাগা ,
o
দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করা
o ঘাম হওয়া, মাথা ধরা ইত্যাদি।
খুব বেশী কমে গেলে অজ্ঞান হয়ে ফিট হয়ে যেতে পারেন। যাদের একবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় তারা এর লক্ষন গুলো আরম্ভ হলেই বুঝতে পারেন।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া পরিহারের উপায়
o বায়াম শুরু করার আগে রক্তে গ্লূকোজের মাত্রা দেখে নেবেন। ১০০মিগ্রা এর
নীচে হলে অল্প কিছু খেয়ে নেবেন।
o যদি ইনসুলিন নেন তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ব্যায়াম করার সময়
পকেটে অল্প কিছু গ্লুকোজ, চিনি বা মিস্টি ফলের রস রাখবেন।খারাপ লাগা
শুরু হলেই খেয়ে নেবেন।
o যদি অনেক ক্ষন ব্যায়াম করতে হয় তবে ব্যায়াম শেষ করার আগেও কিছূ
খেয়ে নিতে পারেন।
o বায়ামের শেষে আবার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন।তা থেকে কি
পরিমান ব্যায়াম কতটুকু গ্লুকোজ কমায় সে ব্যাপারে ধারনা পাবেন।
o একটু বেশী করে পানি খাবেন , ব্যায়াম শুরুর আগে, ব্যায়াম করার সময়
বা পরে।
o স্বল্প মুল্যে রক্তের গ্লূকোজ পরীক্ষার যন্ত্র কিনতে পারেন যার মাধ্যমে
প্রতিদিন রক্তের গ্লূকোজ পরীক্ষা করে নিতে পারেন
জীবন যাত্রা প্রনালির পরিবর্তনঃ-
কায়িক পরিশ্রম বেশী হয় এমন ভাবে কাজ নির্ধারন করুনঃ-
- বাসার কাজ নিজে করবেন, ঘর নিজেই পরিস্কার করবেন।
- সময় থাকলে বাগান বা শবজি চাষ করবেন।